হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)।। ২য় অংশ

আসন্ন মৃত্যু প্রাক্কালে মহানবী (সাঃ) তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী হযরত উমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ)-কে বললেন, আমার মৃত্যুর পর আমার খিরকা হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)কে দিবে। তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, তিনি যেন আমার গুনাহগার উম্মতের জন্য দু’আ করেন। নবীজী (সাঃ) এর আদেশ যথাসময়ে পালিত হয়।

হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এর সন্ধান লাভঃ

হযরত উমর (রাঃ-এর শাসনকাল। মহানবী (সাঃ)-এর নির্দেশ ভূলে যননি তিনি। হযরত আলী (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে একদিন বেরিয়ে পড়লেন মহাতপস হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এর সন্ধানে কুফার পথে। কুফার মসজিদে খোতবা পাঠকালে হযরত উমর (রাঃ) উপস্থিত লোকজনদের হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এর কথা জিঙ্গেস করলেন। কিন্তু তেমন সুবিধা হল না। মানুষ তাঁকে দেখেছে। কিন্তু তাঁর ভেতরের জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্ত্বেকে শনাক্ত করতে পারেনি। যেটুকু সংবাদ পাওয়া গেল তা হল, সে একটা পাগল। লোকালয় ছেড়ে জনবিরল এলাকায় বাস করে। মাঠে গরু চরায়। দিনের শেষে গুকনো রুটি খায়। লোকে যখন হাসে, সে তখন কাঁদে। আর লোকে যখন কাঁদে সে তখন হাসে। খপছাড়া আস্ত এক পাগল।

এ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা দু’জনে কারণ এলাকায় গেলেন। হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) তখন একমনে নামায পড়ছেন। পাশেই তাঁর উঠ চলছিল। আল্লাহর ফেরেশতাগণ উটের পাল দেখাশোনা করছিলেন। নামায শেষ করে তিনি অতিথিদের কাছে এসে সালাম জানালেন।

তাঁরা বললেনঃ

প্রশ্নঃ আপনার নামটা জানতে পারি কি?

উত্তরঃ তিনি বললেন, আবদুল্লাহ।

প্রশ্নঃ হযরত উমর (রাঃ) বললেন, আপনার আসল নামটি বলুন।

উত্তরঃ ওয়ায়েস।

প্রশ্নঃ দয়া করে আপনার হাতখানা দেখাবেন?

উত্তরঃ তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কথার সঙ্গে হুবহু মিল। সেই সাদা দাগ। অথচ শ্বিতী নয়। হযরত উমর (রাঃ) হাতে চুমু দিলেন। তারপর তাঁর হাতে তুলে দিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র খিরকা। আর তিনি যেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর উম্মতদের জন্য দোয়া করেন, সে কথাও তাঁর কাছে নিবেদন করা হলো।

কিন্তু হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) বললেন, আপনারা ভাল করে খোঁজ নিন। সমম্ভত তিনি অন্য লোক হবেন। হযরত উমর (রাঃ)বললেন আমরা খুব ভালভাবেই খোঁজ নিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেসব চিহ্নের কথা বলেছিলেন, তা মিলে গেছে। আপরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, আপনি তাঁর পরমপ্রিয় ওয়ায়েস।

এতক্ষণে হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) আগন্তুকদের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। আর পরিচয় পাওয়ার পর পুলকিত চিত্তে তিনি তাঁদের সালাম জানালেন। হাতে চুমু দিলেন। বললেন, আপনাদের মতো মহাসম্মানিত ব্যক্তিরা এ গরিবের কাছে তশরীফ এনেছেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। আরো বললেন, নবীজীর গুনাহগার বান্দার জন্য দুয়া করার যোগ্যতা আপনাদেরই বেশি রয়েছে।

হযরত উমর (রাঃ) বললেন, আমরা তা করছি। কিন্তু আপনিও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশ পালন করুন।

হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র খিরকাটি হাতে নিয়ে ওয়ায়েস কারণী (রঃ)সামান্য তফাতে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন, প্রভু গো! রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর উম্মতদের গুনাহ মাফ না করলে আমি এ খিরকা পরব না। নবী-মুস্তফা হযরত উমর ও হযরত আলীর প্রতি যে দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন, তাঁরা তা পালন করেছেন। এখন আপনার কাজ বাকি। আপনি আপনার প্রিয় বন্ধুর উম্মতের পাপ মাফ করে দিন।

দৈববাণী হলো, হে ওয়াসেস! তোমার দোয়ার কারণে কিছু সংখ্যক উম্মতকে মাফ করা হলো। কিন্তু তিনি শুনলেন না। বললেন, যতক্ষন পর্যন্ত সমস্ত উম্মতকে মাফ করা হয়, ততক্ষণ আমি নবীজীর দেয়া খিরকা পরব না।

আকাশবাণী এল- তোমার দোয়ার জন্য কয়েক হাজার মানুষকে মার্জনা করা হবে।

ওয়ায়েস কারণী (রঃ) যখন এভাবে সেজদাবনত অবস্থায় প্রতিপালকের দরবারে তাঁর আবেদন রাখছেন, তখন সেখানে হযরত উমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এসে হাজির। তাঁদের দেখে, তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, আপনারা কেন আমার কাছে এলেন? আমি যে রাসূলের উম্মতদের মুক্তির জন্য চেষ্টা করছিলাম। যে পর্যন্ত না তাদের সবাইকে মাফ করাতে পারছি, সে পর্যন্ত আমি প্রিয় নবীর খিরকা গায়ে তুলব না।

তৃতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *