তক্‌দির বিনষ্টকারী খাসলতের আলামত

তক্‌দির নিয়ে অল্পবিস্তর চিন্তাভাবনা করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দুনিয়া এবং আখেরাতে অর্থাৎ জীবৎকালে এবং মরণের পর জীবনটির পরিণতি কেমন হবে তা জানার জন্য রাজা-বাদশাহ, উকিল-মোক্তার এবং ফকির-মিসকিন বলতে গেলে একই রকম আবেগ এবং উৎকণ্ঠায় ভোগেন। ধর্মকর্মে বিশ্বাস করেন না এবং নিজেকে প্রচণ্ড আধুনিক ভাবেন এমন একজন মনোবিজ্ঞানী সন্ধ্যার পর একাকী মতিঝিলের অফিসপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন।  পথিমধ্যে অর্ধউলঙ্গ পাগলবেশী এক লোক তিড়িংবিড়িং লাফাতে লাফাতে মনোবিজ্ঞানীর সামনে এলো। তারপর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত ভাষায় কিসব বলল এবং নির্জন রাস্তায় মনোবিজ্ঞানীর মুখের ওপর মৃদু থুথুযুক্ত ফুঁ দিয়ে চিৎকার করে বলল— যা! তোর হবে!

read more

মোনাজাত কবুল হওয়ার আলামত

মোনাজাত কবুল করা না করা আল্লাহপাকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। আমাদের তা জানার কোনো উপায় নেই। অবশ্য এমন কিছু নিদের্শনা রয়েছে যার মাধ্যমে মোটামুটি আঁচ করা যায় যে, দোয়া কবুল হয়েছে। যেমন— (ক) মোনাজাতের পর ইবাদতে মন লাগা, গুনাহের প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হওয়া। (খ) পূর্বের অবস্থার মধ্যে পরিবর্তন অনুভূত হওয়া। (গ) আখেরাতের প্রতি মন ধাবিত হওয়া। দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি সৃষ্টি হওয়া। যদি এমন অবস্থা অনুভূত হয়, তাহলে ধারণা করা যায় যে, আল্লাহপাকের করুণার দৃষ্টি আরোপিত হয়েছে। তাই আল্লাহর এহসানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন। যাতে এ অবস্থা বিদ্যমান থাকে। তাই গুনাহ বর্জনপূর্বক নেক কাজের প্রতি ধাবমান থাকা বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, যে ঘরে মাল থাকে, চোর-ডাকাত সে ঘরেই ঢুকে। শয়তান মানুষের চির শত্রু। সে আমার আপনার ইমানের ডাকাত ও চোর, তাই সতর্ক থাকতে হবে। আর যদি আগের অবস্থায় কোনো উন্নতি অনুভূত না হয়। যদি ইবাদত-রিয়াজতে মন না বসে, গুনাহের প্রতি মন ধাবিত হয়।

read more

কবরের আযাব গোপন রাখার হিকমত কী?

কবরের আযাব গোপন রাখার মধ্যে আরো যেসব বড় বড় হিকমতে ইলাহী লুকায়িত রয়েছে, তার মধ্যে এও রয়েছে যে,
(১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মৃতদেরকে দাফন করা থেকে বিরত থাকার আশঙ্কা না থাকলে আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দু’আ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব থেকে কিছু শুনান।
(২) কবরের আযাব গোপন রাখার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মৃতের পরিবারের প্রতি রহম করেছেন। কেননা তারা যদি তাদের মাইয়্যেতের আযাব ও চিতকার শুনতো, তাহলে তারা স্থির থাকতে পারতোনা।
(৩) আযাব গোপন রাখার মাধ্যমে মৃতের মান-মর্যাদার দিকটার প্রতিও খেয়াল রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তার জীবিত আত্মীয় স্বজনকে তার বেহাল অবস্থা জানাতে চান নি।
(৪) মৃতের পরিবারের মান-ইজ্জতের প্রতিও খেয়াল রাখা হয়েছে। কেননা মাইয়্যেতের আযাব শুনলে লোকেরা হয়ত তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবাবের জীবিত সদ্যস্যদেরকে দোষারোপ করে বলতোঃ এই তো তোমার পিতাকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, এই তো তোমার মা খুব আযাবে আছে! এই তো তোমার ছেলে…..ভাই… ইত্যাদি।
(৫) আযাবের আওয়াজ ও চিতকার শুনেই কারো মৃত্যু হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কেননা এই আওয়াজ সাধারণ আওয়াজ নয়। এতে অন্তর ফেটে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে মৃত্যু অথবা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়; এর ফলে পৃথিবীর এই সুন্দর নিয়ম-কানুন লন্ড-ভন্ড হয়ে যেত, যা হিকমতে ইলাহীর খেলাফ।
(৬) মানুষ যদি আযাবে নিপতিত লোকদের এই চিতকার শুনতো, তাহলে ঈমান বিল গায়েব (না দেখে বিশ্বাস করা) ঈমান বিল মুশাহদাহয় (দেখে বিশ্বাস করায়) পরিণত হতো। আর আযাব ও নিদর্শন দেখিয়ে কাউকে বিশ্বাসী বানিয়ে পরীক্ষা করার কোন অর্থই হয়না এবং সেই বিশ্বাসের কোন মূল্যও থাকেনা। কেননা কিয়ামতের পূর্বে যখন মানুষ পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠতে দেখবে, তখন সকলেই ঈমান আনয়ন করবে। কিন্তু সেই ঈমান কোন উপকারে আসবেনা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺑَﻌْﺾُ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﺎ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﻧَﻔْﺴًﺎ ﺇِﻳﻤَﺎﻧُﻬَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻦْ ﺁﻣَﻨَﺖْ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻞُ ﺃَﻭْ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﻓِﻲ ﺇِﻳﻤَﺎﻧِﻬَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ
“যে দিন তোমার পালনকর্তার কোন নিদর্শন এসে যাবে তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোন উপকারে আসবেনা যে পূর্ব থেকে ঈমান আনয়ন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোন সতকাজ করেনি”। (সূরা আনআমঃ ১৫৮)

read more

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড ও মানবসভ্যতার প্রাণ।

মানবাত্মার সুষম বিকাশ, লালন ও কর্ষণের একমাত্র বাহন হলো শিক্ষা। শিক্ষা জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির এক নিয়ামক শক্তি, তাই সুশিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি ও ক্রমোন্নতি সম্ভব নয়। প্রকৃত শিক্ষাই মানুষের দেহ ও আত্মাকে সুন্দর সুসামঞ্জস করে গড়ে তোলে এবং মানুষকে সচ্চরিত্রবান, সুরুচিসম্পন্ন, কর্মদক্ষ, ন্যায়-নিষ্ঠাবান, পরিশীলিত ও পরিমার্জিত করে তাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ মানবে পরিণত করে। ফলে সে অজ্ঞেয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। যে জ্ঞানের মাধ্যমে তার সুকুমার বৃত্তি বিকশিত হয় এবং মানবিক চেতনার উন্মেষ ঘটে।
পৃথিবীতে কেবল ইসলাম ছাড়া সব মতবাদ ও মতাদর্শে শিক্ষার এই মূলতত্ত্ব অনুপস্থিত। ইসলাম নিছক গতানুগতিক কোনো ধর্মের নাম নয়, বরং এটি হলো মানবতার মুক্তির মহা সনদ এবং উন্নত জীবন ধারার ব্যবস্থাপক। এখানে নৈতিকতার প্রাণশক্তি স্পন্দিত এবং প্রকৃত শিক্ষার আলো বিচ্ছুরিত। মানুষের জীবন ধারা, কর্মপদ্ধতি, আদর্শ, কর্মচাঞ্চল্য, ত্যাগ, সাধনা ও সফলতার সমন্বয় ও অভিব্যক্তির পরস্ফুিটন ঘটেছে এই ইসলামের মাঝে। পৃথিবীর প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামই সর্বপ্রথম শিক্ষার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আহ্বান করেছে অজ্ঞতার অমানিশার বুকচিরে সুশিক্ষার আলোর দিকে।

read more

ওহুদ যুদ্ধের এক বীরাঙ্গনা রমণীর ইতিহাস

ওহুদের ময়দানে এক নারী মহা পরাক্রমশালী বীর পুরুষের ন্যায় যুদ্ধ করেছিলেন। এই বীরাঙ্গনার নাম “নাসিবা (রাঃ)”। নাসিবার স্বামী এবং পুত্রদ্বয় ওহুদের যুদ্ধে গমন করলে নাসিবা (রাঃ) নিশ্চেষ্টভাবে গৃহে বসে থাকা অপেক্ষা যুদ্ধে গমন করা শ্রেয় বলে স্থির করলেন এবং আহত মুসলমান সৈনিকদেরকে পানি প্রদান করার জন্যে মশক আনয়ন পূর্বক আহত সৈনিকদেরকে উহা প্রদান করছিলেন। কিন্তু যখন মুসলমানদের করুণ অবস্থা, তখন নাসিবা আর স্থির থাকতে পারলেন না। এক আহত সৈনিকের হাত হতে তরবারী গ্রহণ করে শত্রু সৈন্যকে আক্রমণ করতে প্রবৃত্ত হলেন।

read more

সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ নাজিল হয়েছে যে কারণে

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ -এর অর্থ পরম করুণাময় অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সুরা তাওবা ব্যতীত পবিত্র কোরআনে অবতীর্ণ সকল সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ রয়েছে।
কিন্তু কেনো সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম অবতীর্ণ করা হয়েছে- এর কারণ সম্পর্কে হযরত ইমাম আবু হানীফা [রহ] এবং মদিনার অন্যান্য ফোকাহায়ে কেরাম বলেছেন, মূলত ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সূরায়ে ফাতিহা কিংবা অপর কোনো সূরার অংশ বিশেষ নয় বরং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে অথবা দুটি সূরার মাঝে পার্থক্য নির্ণয়ের লক্ষ্যে প্রতিটি সূরা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয়েছে।

read more

নামাজের স্বাস্থ্য উপকারিতা

নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয়। নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলমান সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য প্রকাশ করেন। এই নামাজের রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুধু মানুষকে কুপ্রবৃত্তি থেকেই দূরে রাখে না, এটা শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখে। নামাজ অত্যন্ত উত্তম ব্যায়াম। মানুষ যখন মন দিয়ে নামাজ পড়ে তখন তা মেডিটেশনের (ধ্যান) কাজ দেয়, যা মনকে স্থির করে। চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া নামাজে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যেভাবে নড়াচড়া করা হয় সেটা অত্যন্ত উত্তম ব্যায়ামের কাজ দেয়; বিজ্ঞানও তা সমর্থন করেছে।

read more

যে কারণে সূরা ফাতিহার ২১টি নাম !

সূরা ফাতেহার ২১টি নাম রয়েছে। এই নামগুলো সূরাটির ফজীলত ও মর্যাদার বাহক। কেননা কোন জিনিসকে অধিক নাম দ্বারা নাম করণ করলে তার বাড়তি মর্যাদার প্রমাণ বহন করে থাকে। নিম্নে সুরা ফাতিহার বেশ কিছু নাম উল্লেখ করা
হলঃ

read more

রাসূল সা. -এর অনুপম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা (১ম অংশ): মুফতি আব্দুল মুকিত

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর রাসূলের মধ্যে আছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ, যারা আাল্লাহকে চায়, আখেরাত দিবসের কামনা করে ও আল্লাহকে বেশী স্মরণ করে। [সূরা আহযাব : ২১] অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, কলম ও যে জ্ঞান তারা লেখেন তার শপথ, আপনি আপনার প্রভুর অনুগ্রহে পাগল নন। নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। [সূরা নূন : ১-৪] জ্ঞানের শপথ এজন্যই করেছেন যে, অনেক তথাকথিত চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ দাবিদারগণ বলেন যে, রাসূল সা. এর আদর্শ  উত্তম আদর্শ নয়। এটা বর্তমান যুগের উপযোগী নয়, অধুনিক সভ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ও বাস্তবসম্মত নয়, এরকম অনেক কথা তারা বলেন। এরকম কথা শুধু তারা বলেননি, বরং তাদের মত অনেক অজ্ঞরা অতীতেও এরকম কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও এরকম বলবে। তাই আল্লাহ তায়ালা, যিনি জগত সৃষ্টি করেছেন, এসকল চিন্তাবিদগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদের জীবন ধারনের উপকরন, গাছ পালা, তরুলতা, আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, নভুমন্ডল, ভূমন্ডল, সমুদ্র, পাহাড় সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই সকল কিছুর মালিক। তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই আল্লাহ তায়ালা বলেন, (হে রাসূল!) নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারীএ [সূরা কলম: ৪] আপনি দেখবেন এবং তারাও দেখবে আপনাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্থ? আপনি কিছুদিন অপেক্ষা করুন, কিছুদিনের মধ্যে স্পষ্ট হবে, কোন আদর্শ বাস্তবসম্মত? কোনটা সফল ও কোনটা উত্তম আদর্শ? কোন আদর্শের মধ্যে সুখ-শান্তি নিহিত আছে তা প্রকাশিত হয়ে যাবে। আপনার আদর্শ নাকি এসকল তথাকথিত চিন্তাবিদদের আদর্শ! আপনি পাগল নাকি তারা পাগল ও বিকারগ্রস্ত?
আমরা কুরআন-হাদীসের চর্চা কম করি বিধায় আমরা আমাদের শত্রু-মিত্র চিনি না। আল্লাহ সে সকল শত্রুদের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, আপনি মিথ্যুকদের অনুসরন করবেন না। তারা চায় আপনি নমনীয় হলে তারা নমনীয় হবে। [সূরা কলম:৮-৯]
আমাদের মধ্যে অনেকে বলেন, এত গোড়ামীর কি দরকার? আমরা নামায, রোযা, হজ, যাকাত পালন করব তবে পোষাকে, আচরণে, খেতে, ঘুমাতে এত সুন্নাতের কথা বলা বাড়াবাড়ি। আমরা আধুনিক মুসলমান হতে চাই। আমরা আল্লাহর ইবাদত নামায ইত্যাদি করব, তবে সর্বক্ষেত্রে সুন্নাত পালন করলে যুগের সাথে তাল মিলাতে পারব না। নামায পড়ব তবে হাফপ্যান্ট, টাই পরে সবাই যেমন সভ্য, আধুনিক হয় সেরকম আমাকে হতে হবে। নারীদের সাথে অবাধে মেলামেশা করতে হবে, সবাই যেমন দাড়িহীন পরিস্কার চেহারা রেখে আধুনিক থাকে আমাকেও সমাজে চলতে হলে সেরকম হতে হবে। অর্থাৎ রাসূল সা. এর সুন্নতের অনুসরন করতে পারব না। অজ্ঞরা আরো বলে যে, আমাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে আর এর দ্বারা তারা বুঝাতে চায় যে আমাদের চেহারা-সূরত, পোষাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণে ইসলামের গোড়ামী তথা সুন্নাত ছেড়ে এমন হতে হবে যে আমাকে দেখে যেন বুঝা না যায় আমি  মুসলমান না হিন্দু, বৌদ্ধ না খ্রিষ্টান। তবেই তো আমি সকল জাতির নেতা হতে পারব। আল্লাহ তায়ালা এ সকল ইসলামী শত্রুদের ব্যাপারে সতর্ক করে বলছেন যে, আপনি মিথ্যুকদের অনুসরন করবেন না। তারা কামনা করবে যে, আপনি (ইসলামী আদর্শ ছেড়ে) নমনীয় হন তবে তারাও  নমনীয় হবে (আপনাকে নেতা বলে স্বীকার করবে ও আপনার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করবে)। আল্লাহ পাক কুরআনে মুনাফেক ও কাফেরের গূণাগুন বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন, তাদের মত চরিত্রের মানুষ সব যুগে আসবে তবে তোমরা তাদের অনুসরন করবে না।
মনোবিজ্ঞানে একটি দর্শন হল যে, সকল মানুষের মধ্যে সুপ্ত একটি আদর্শ লুকায়িত থাকে। সবাই মনে মনে একজনকে ভালবাসে, তার সকল কাজকর্ম পছন্দ করে আর তাই তার অনুসরন করতে চায়। কেউ হয়ত কোন ভাল মানুষকে আদর্শ মানে বা কেউ কোন খারাপ মানুষকে আদর্শ মানে। তবে সবাই কোন একজনকে মনে মনে আদর্শ মানে। সকল মানুষ তার অজান্তে দুটো ব্যক্তিত্ব অন্তরে ধারন করে। এক ব্যক্তিত্ব যাকে সে পছন্দ করে ও সে তার মত হতে চায় আর অন্য ব্যক্তিত্ব হল যাকে সে অপছন্দ করে ও সে তার মত হতে চায় না। এ কারনে সকল শিশু তার দেখা কার্টুন, নাটক বা সিনেমার নায়কের ব্যক্তিকে ভালবাসে ও সে তার মত হতে চায় ও খলনায়কের ব্যক্তিত্বকে সে অপছন্দ করে ও সে তার মত হতে চায় না। তাই অনেককে তার চুলের কাট, জামার ডিজাইন, জুতার ষ্টাইল এমনকি হাটাচলা, কথাবার্তা, আচার-আচরণ তার মনের নায়কের মত বানিয়ে ফেলে এবং তার মনের ভিলেনের মত কাউকে জামা, চুল, হাটা-চলা বা আচার-আচরণ দেখলে সে তিরস্কার করতে থাকে। এমনিভাবে বড় শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ বা চিন্তাবিদ তার মনে পুষে রাখা এক ব্যক্তিকে ভালবাসে ও তার মত হতে চায় এবং অন্য এক ব্যক্তিকে সে অপছন্দ করে ও সে তার মত হতে চায় না। আর এ কারনেই ইসলামী শত্রুরা হুজুর, মৌলবাদ, ফরাজী বা হাজি বলে তিরস্কার করে ও ইসলামী ব্যক্তিত্বকে মন্দভাবে উপস্থাপন করে যাতে সবাই তাদেরকে অপছন্দ করে ও কেউ তাদের মত হতে না চায়। এখানে ভাল- মন্দ বিশ্লেষনের কোন মাপকাঠি নেই। সবাই যাকে ভাল বলে সেই ভাল যদিও সে নায়ক চাঁদাবাজ, পিস্তল উচু করা সন্ত্রাসী বা অন্য নারীদেরকে তার অনিচ্ছায় উত্যক্ত করার চরিত্রের অধিকারী হয় তবুও সে তাকে অনুসরন করতে চায়। আর হুজুর মসজিদে থাকে, বগলের নিচে ছাতা রাখে ও তাকে নিয়ে সকলে হাসিঠাট্রা করে এমন চরিত্রের বাহক করে ইসলামের বাহককে উপস্থাপন করা হয় তাই তাকে কেউ অনুসরন করতে চায় না।
মন্দ মানুষের চরিত্রআল্লাহ তায়ালা সে মন্দ চরিত্রের গুণাগুন তুলে ধরেছেন যাতে আমরা ও আমাদের মুসলমানদের সন্তানরা জানতে পারে আসলে কোনটি আদর্শ ও অনুসরনযোগ্য চরিত্র আর কোনটি মন্দ চরিত্র যাকে অনুসরন করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, আপনি এমন ব্যক্তির অনুসরন করবেন না যে বেশী শপথ করে ও হীন, যে পরনিন্দা করতে অভ্যস্ত চুগলখুরী করে বেড়ায়, সৎকাজে বাধা প্রদান করে, সীমা লংঘন করে, পাপীষ্ঠ, অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এবং সর্বোপরী সে নীচ বংশীয়, এই কারণে যে সে সম্পদ ও সন্তানসমূহের অধীকারী। [সূরা কলম :১০-১৪] আল্লাহর কুরআনে মন্দ চরিত্রের সে ব্যক্তির পরিচয়ে নি¤েœাক্ত দোষগুলো উল্লেখ করেছেন: (১) যে (কথায় কথায়) শপথ করে ও অপমানিত, যে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে চুগলখুরী করে ও পরনিন্দা করে বেড়ায়। আমরা আমাদের সমাজে তাকালে দেখতে পাই যে, নেতা বা সাহসী পুরুষ তাকেই বলে যে কথায় কথায় গালি দিতে পারে ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে চিৎকার-চেচামেচি করতে পারে। বড় রাজনীতিবিদ সে যে অন্য পক্ষের পরনিন্দা করে ও তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক দোষ খুঁজে খুঁজে বলে বেড়াতে পারে বা তার বক্তৃতায় বিপক্ষ দলের দোষের পরসিংখ্যান তুলে ধরতে পারে। আর এ ধরণের নেতাদের অনুসারীরা তাকেই আবার তার পিছনে অপমানিত বলে ও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ঘৃণিত বলে। যেমনিভাবে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন। (২) ২য় গুণ হল যে সে কল্যাণকাজে বাধাদান করে। আমাদের সমাজে একশ্রেণীর নেতা  আছে যারা সকল ভাল কাজে বাধা দেয়। তাকে সভাপতি বানানো হয়নি তাই মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা দাতব্য সংস্থার অনুমোদন দেয়না। মসজিদ কমিটি কোন অনুদান পাবে না। তাকে সভাপতি বানানো হয়নি বলে ইসলামী সম্মেলন হবে না। ৩য়) সে সীমা লংঘন করে। আমাদের আধুনিক কিশোর- কিশোরী, যুবক-যুবতী মানে হল তারা কোন বাধা মানবে না, বাধভাঙা জোয়ারের মত তারা ছুটবে বলে স্লোগান চলছে। পোষাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা, মেলামেশায় মুরব্বিদের রাতে বের না হওয়া, ছেলে-মেয়ে একত্রে চলাফেরা না করার নির্দেশনা তারা মানবে না। তারা কাউকে মানবে না। সমাজ, প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক, হিতাকাংক্ষী বা ইসলামের বাহক কারো পরওয়া করবে না। সকল সীমা লংঘন করাকে তারা বাহাদুরী ও তারুণ্য মনে করে। ৪) তারা পাপী, অহংকারী হবে। আমাদের কিছু যুবক-যুবতী পাপ করে ও এতে গর্ববোধ করে। কোন মেয়েকে ইভটিজিং করে ও তাকে মা-বাবার অসম্মতীতে তুলে নিয়ে যায় ও এটাকে নায়কোচিত কাজ মনে করে ও নিজেকে সাহসী বাহাদুর মনে করে গর্ববোধ করে। শিক্ষককে অপমান করে, লাঞ্চিত করে এবং কখনো মারধর করে গর্ববোধ করে। এমনকি আমাদের সমাজে এমন নেতাকেও দেখা গেছে যে ব্যাভিচার বা ধর্ষণের মত ঘৃণ্য কাজ নিয়েও গর্ববোধ করছে। একশত ধর্ষণ করার গর্ব নিয়ে উৎসব করেছে তাও আমাদের পত্রিকাগুলোতে শিরোনাম হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক কর্মীদেরকে বিপক্ষ দলের কর্মীদেরকে হত্যা করতে দেখা গেছে। এরকম অপরাধ তারা কেনইবা করে বা এমন অপরাধ করার সাহসই বা তারা কোথায় পায়? তার উত্তরও আল্লাহ তায়ালা চৌদ্দশত বছর আগেই রাসূলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, তারা সর্বোপরী নীচ বংশীয়। কারণ তারা সম্পদশালী ও দলভারী মানুষ। আমাদের সমাজ বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই, এ ধরনের অপরাধ কোন প্রশাসনের ভয় ছাড়া, সমাজের ঘৃণার আতংক ছাড়া সকল সীমা অতিক্রম করতে পারে সে সকল যুবক-যুবতী, তরুন-তরুনীরা যারা ধনীর দুলাল হয় এবং যার খুটির জোড় শক্ত থাকে। কারণ তারা জানে প্রশাসন তার সম্পদের জোড়ে বা তার পরিবারের প্রভাবের জোরে তার কিছু করতে পারবে না। সমাজ তাদের টাকায় চলে বা তাদের প্রভাবের আশ্রয়ে বেচে থাকে বলে তাদের সকল অপরাধকে এ সমাজ  মেনে নেবে এবং তাদেরকে বাধা বা তাদের নিন্দা করতে পারবে না। সর্বোপরী এ সকল মানুষের পারিবারিক দায়বদ্ধতা বা বংশীয় মর্যাদা রক্ষার চিন্তা নেই কারণ তার পিতা-মাতার সম্পর্ক অটুট নয়। বরং নড়বড়ে ও তাদের সন্তান পিতৃপরিচয়হীন হওয়ার ব্যাপারে তাদের কোন সতর্কতা নেই; বরং তারাও বাধভাঙা শ্রোতের যাত্রী। স্বামী স্ত্রীর প্রতি দায়বদ্ধ যতœশীল নয় এবং স্ত্রীও স্বামীর প্রতি অনুগত ও দায়বদ্ধ নয়। তাদের মানসিকতা হল তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলেই একে অপরের জালে বা জেলখানায় আবদ্ধ নয়, তারা যেখানে চায় বা যার সাথে চায় সম্পর্ক রাখতে পারবে বা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। আর পিতা-মাতার এ দায়বদ্ধহীনতা থেকে সন্তানরাও চারিত্রিক অবক্ষয়ের মধ্যে পরে যায় আর সাথে তো সম্পদ ও প্রভাব আছেই।
এ সকল দুশ্চরিত্র লোকদের অনুসরন করা তো যাবে না, তবে এদের সাথে আচরণ কেমন হবে? আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা. কে বলেন, ভাল- মন্দ সমান নয়। আপনি মন্দকে ভাল  উপায়ে দমন করুন তাহলে  আপনার ও যাদের মাঝে শত্রুতা আছে তারা ঘনিষ্ট মিত্র হয়ে যাবে। [সূরা ফুস্সিলতা : ৩৪] আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। [সূরা কলম : ৪] কোন গুণাগুণ উত্তম আদর্শের মাপকাঠি? রাসূল সা. এর চরিত্র কেমন ছিল? সে বিষয়ে বিস্তর আলোচনা ও বিবরন আমরা ধারাবাহিক ভাবে করব।
ব্যক্তি জীবনে রাসূল সা.
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. কে আতা রা. রাসূল সা. এর গুণাগুণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূল সা. এর গুণাগুণ যেমন কুরআনে আছে সেরকম তাওরাতেও আছে। আমি আপনাকে সুসংবাদ প্রদানকারী, সতর্ককারী ও মূর্খদের আশ্রয়স্থল রূপে পাঠিয়েছি। আপনাকে আমি ভরসাকারী নামকরণ করেছি। আপনি কর্কশ ভাষী  এবং কঠোর নন। তিনি মন্দকে মন্দ দ্বারা দমন করেন না। বরং তিনি ক্ষমা করেন ও মাফ করেন। [বুখারী:১৯৯১] অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূল সা. ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বাজে কথা বলতেন না। [বুখারী:৫৬৮৪] একবার রাসূল সা. হযরত আয়েশা রা. এর কাছে ছিলেন। একজন মন্দ লোক আসল তখন রাসূল সা. বললেন, লোকটি আচরণে খারাপ সন্তান অর্থাৎ লোকটির ব্যবহার খারাপ। রাসূল সা. তার সাথে হাসিমুখে ও নম্্র সুরে কথা বললেন। তখন হযরত আয়েশা রা. বললেন,  আপনি যা বলেছেন তাতো বলেছেন (আপনি লোকটির ব্যবহার খারাপ বললেন তারপরও তার সাথে ন¤্র সুরে কথা বললেন কেমন যেন তাকে তোওয়াজ করলেন)। রাসূল সা. বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি আমাকে কখনো মন্দ কথা বলতে দেখেছ? (সে আমার সাথে মন্দ ব্যবহার করলে আমিও তো তার সাথে মন্দ ব্যবহার করতে পারি না।) [বুখারী:৫৫৯৯]
রাসূল সা. বাজারে চিৎকার চেঁচামেচি করতেন না। [তিরমিযী:১৯৩৫] উপরোল্লিখিত মন্দ লোকটির পুরো উল্টো চরিত্র। রাসূল সা. কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে চিৎকার করে সম্বোধন করতেন না। হযরত আনাস রা. বলেন, যখন কেউ রাসূল সা. এর সাথে মোসাফাহা করতেন, তখন সে লোক যতক্ষণ না রাসূল সা. এর হাত ছাড়তেন রাসূল সা. নিজ থেকে হাত ছাড়তেন না। [মুসনাদে আবী হানীফা:২২৯, ইবনে মাজাহ:৩৭১৬] যখন কারো সাথে কথা বলতেন, যতক্ষন সে তার কথা বন্ধ করত না রাসূল সা. নিজ থেকে কথা বন্ধ করতেন না। [বায়হাক্বী:১৩৫৯, ইবনে মাজাহ:৩৭১৬]
রাসূল সা. একবার সাহাবাদের সাথে বের হলে এক বৃদ্ধা মহিলা রাসূল সা. কে থামালেন ও তার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেন তারপর রাসূল সা. কে বাজারে নিয়ে গেলেন এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার পাওনা আদায় করে দেয়ার জন্য আর সাহাবাগণ তা প্রত্যক্ষ্য করলেন। [বুখারী:৫৭২৪, ইবনে মাজাহ:৪১৭৭]
যখন রাসূল সা. কারো সাথে বসতেন তখন কখনো রাসূল সা. কে পা ছড়িয়ে বসতে দেখা যায়নি। [ইবনে মাজাহ:৩৭১৬] অথচ আমরা একটু বড় বা নেতা হলে হেলান দিয়ে বা পা ছড়িয়ে বসি যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে আমি বড় বা নেতা। রাসূল সা. সেভাবে বসতেন যেভাবে একজন সাধারণ মানুষ বসে, রাসূল সা. সেভাবে খেতেন যেভাবে একজন সাধারণ মানুষ খায়। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক:১৯৫৫৪] হাদীসের মধ্যে বসা বা খাবারের বিবরন বিশেষ করে কেন আসল? কারণ খাবারে আমরা অনেক অপচয় করি ও বিলাসিতা করি। একই খাবার যেমন মুরগির গোশত বাসায় বা সাধরণ রেস্টুরেন্টে খেলে খরচ হয় ৬০ টাকা আবার সেই একই মুরগির গোশত শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিত দামী রেস্টুরেন্টে খেলে বিল হয় ২০০০ টাকা। রাসূল সা. নিজেই ছাগল চড়াতেন, উটের খাবার খাওয়াতেন, জুতা সেলাই করতেন, কাপড় সেলাই করতেন, ঘর ঝাড়– দিতেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সা. তার পরিবারের কাজে নিয়োজিত থাকতেন। [বুখারী শরীফ:৬৩৮] আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজ বা নারীবাদি সমাজের সুশীলগণ যারা নারী মুক্তি, নারী অগ্রগর্তি বা নারী প্রগতির অন্তরায় ধর্মীয় মূল্যবোধকে দায়ী করেন তাদের মধ্যে কি এমন একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে যে দাবী করতে পারবে যে সে তার ঘর ঝাড়– দেয় বা জুতা ও জামা সেলাই করে। রাসূল সা. তার চাকরের কাজ আটা পিষায় অংশগ্রহণ করতেন যখন সে চাকর ক্লান্ত হয়ে যেত।
শিশুদেও সাথে রাসূল সা. রাসূল সা. চাকর, শিশু, বড় নেতা সবাইকে আগে সালাম দিতেন। আমাদের সমাজে বাহাদুরী, বীরত্ব দেখানোর স্থান হল অসহায়, দুর্বল সমাজে। কারো সাথে পারে না কিন্তু সে তার স্ত্রীকে প্রহার করে বা শিশুদেরকে ধমকাধমকি করে। আর সকলে চাকর শ্রেণীকে মারা, নির্যাতন করা একটি বীরত্ব মনে করে। অথচ হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সা. কখনো কোন শিশু বা নারীকে আঘাত করেননি। [আবু দাউদ শরীফ:৪১৫৬,মুসনাদে আহমাদ:২৫১৪২]

read more

রাসূল সা. -এর অনুপম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা (২য় অংশ): মুফতি আব্দুল মুকিত

রাসূল সা. কখনো কোন শিশুকে ধমক দেন নি। রাসূল সা. একবার জুমুআর খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন দেখলেন, দু’ শিশু হযরত হাসান ও হুসাইন রা. বাইরে হাটছেন আর হোঁচট খাচ্ছেন আর ধুলোবালু লেগে যাচ্ছে। রাসূল সা. সাহাবাদের সামনে খুৎবা দেয়া বন্ধ করে বাইরে গিয়ে দু’ শিশু হযরত হাসান ও হুসাইন রা. এর কাপড় থেকে ময়লা ঝেরে কোলে নিয়ে আবার এসে খুৎবা সম্পন্ন করলেন। [নাসাঈ শরীফ:১৪১৩] হযরত আনাস রা. বলেন, আমি রাসূল সা. এর দশ বছর খেদমত করেছি। আমি কোন কাজ করে ফেললে বা না করলে তিনি কখনো বলতেন না এটা কেন করলে? বা এটা কেন করলেনা? [বুখারী শরীফ:৪৯৪] মানুষকে চেনার আসল উপায় তার স্ত্রী ও চাকর-বাকর। কারণ মানুষ যখন বাসা থেকে বের হয় তখন সে সবার সাথে কৃত্রিম উপায়ে ভাল ব্যবহার করতে পারে, ন¤্র ভাষায় কথা বলতে পারে; কিন্তু তার আসল রুপ জাহির হয় তার বাসায় বা কর্মস্থলে। এ কারণে রাসূল সা. বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম হল সে যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। হযরত আনাস রা. বলেন, আমাকে রাসূল সা. একবার এক কাজে পাঠালেন। পথিমধ্যে দেখলাম যে ছেলেরা খেলাধুলা করছে। তখন আামি তার সাথে খেলায় মগ্ন হয়ে গেলাম ও রাসূল সা. এর সে কাজের কথা ভুলে গেলাম। হঠাৎ দেখি আমাকে কে যেন পিছন থেকে ধরেছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম, রাসূল সা. আমাকে পিছন থেকে ধরে মুচকি হেসে বলছেন, তুমি কি সেখানে গিয়েছিলে? (আমাকে তিনি আর কিছু বলেন নি, আমাকে ধমক দেন নি) আমি বললাম, আমি এখনি যাচ্ছি। তখন রাসূল সা. সেখানে আমি না আসা পর্যন্ত একটা গাছের নিচে বসেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ:১২৭৭৬,আবু দাউদ শরীফ:৪৫২৯]
নারীদের সাথে রাসূল সা.
রাসূল সা. এর স্ত্রী হযরত সাফিয়্যাহ রা. বলেন, আমি রাসূল সা. এর চেয়ে বেশী সুন্দর চরিত্রবান আর কাউকে দেখিনি। [তাবরানী শরীফ:৬৫৭৬]
রাসূল সা. এর কাছে হযরত উম্মে সালামা রা. একবার মিষ্টি জাতীয় কিছু খবার পাঠালেন, তখন রাসূল সা. হযরত আয়েশা রা. এর বাসায় ছিলেন (এবং সেখানে অন্য মানুষও ছিল)। এ খাবার পাঠানো হযরত আয়েশা রা. এর কাছে ভাল লাগেনি। তাই তিনি পেয়ালা ভেঙ্গে ফেললেন। তখন রাসূল সা. (কাউকে বকাবকি করেন নি) পেয়ালার দু’টি টুকরো একত্র করলেন ও তাতে খাবারগুলো উঠালেন ও বললেন, তোমরা খাও, তোমাদের মা রাগ করেছে। ভাঙ্গা পেয়ালা হযরত আয়েশা রা. কে দিয়ে তার কাছ থেকে একটি ভাল পেয়ালা নিয়ে হযরত উম্মে সালামা রা. এর বাসায় পাঠালেন। [বুখারী শরীফ:২৩৪৯] রাসূল সা. তার সকল স্ত্রীদের সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। কখনো কারো সাথে দূর্ব্যবহার করেন নি। আমাদের সমাজে অনেকে নারীদের সাথে ভাল ব্যবহার করে তবে সেটা নিজের স্ত্রী বাদ দিয়ে অন্য নারীদের সাথে। আর নিজের স্ত্রী নিজের চাকরানী মনে করে ও তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। রাসূল সা. এর স্ত্রী হযরত সাফিয়্যা রা. উটে উঠবেন আর উটটি ছিল উঁচু তাই রাসূল সা. নিজে হাটু গেড়ে বসে গেলেন এবং সাফিয়্যাহ রা. রাসূল সা. এর রানে পারা দিয়ে তারপর উটে উঠেলেন। [বুখারী শরীফ:৪২১১] আমাদের সমাজে অনেককে দেখা যায়, স্বামী স্ত্রীর গ্লাসে পানি পান করে না এবং স্ত্রী স্বামীর গ্লাসে পান করে ন। এক ভাই আরেক ভাইয়ের গ্লাসে পানি পান করে না, এক বোন অন্য বোনের গ্লাসে পানি পান করেন না। সন্তান মায়ের গ্লাসে পান করে না এবং মা সন্তানের গ্লাসে পান করে না। এভাবে এক বাসার ছাদের নিচে থাকে অথচ একজন অন্যজনের আপন নয়। হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি পান করার পর রাসূল সা. কে দেখতাম, (আমাকে খুশি করার জন্য) আমি যেখান থেকে পান করেছি সেখান থেকে রাসূল সা. পান করতেন। আমি যেখানে মুখ দিয়ে খেয়েছি সেখানে মুখ দিয়ে রাসূল সা. খেতেন। [নাসাঈ শরীফ:৬০]হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি যখন অপবিত্র থাকতাম তখন আমাকে আরো বেশী কাছে টানতেন ও আমাকে আরো বেশী আদর করতেন। তিনি বলেন, আমি যখন রাসূল সা. এর সাথে গোসল করতাম তখন তিনি বলতেন, আমার জন্য একটু পানি রেখে দাও। তারপর রাসূল সা. আমার অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতেন। [মুসলিম শরীফ:৩২১]
অনেক সময় বাসার নারীদের মধ্যে অনেক নারীর বাড়াবাড়ি আছে। কোন পুরুষ অফিস থেকে ফিরে গিয়ে যদি দেখে যে তার বাসার নারী রান্না-বান্না না করে পাশের বাসার আপার সাথে গল্প করে সময় কাটিয়ে দিয়েছে, তখন সে পুরুষের আচরণ কেমন হবে। হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি একবার আমার বান্ধবীদেরকে আমার বাসায় এনে তাদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তখন রাসূল সা. বাসায় প্রবেশ করলে বান্ধবীরা চলে যেতে চাইলে তিনি বললেন, তোমরা যেমন আছ তেমন থাক। বরং কখনো কখনো রাসূল সা. খেলায় অংশগ্রহণ করে উৎসাহ দিতেন। [বুখারী শরীফ:৫৭৭৯]
হযরত আয়শা রা. বলেন- একবার বাইরে হাবশী গোলামদের আনন্দযাত্রা যাচ্ছিল। রাসূল সা. আমার সামনে থেকে আর আমি তার কাঁধের উপর থেকে তা অবলোকন করছিলাম। [বুখারী শরীফ:৪৩৮]
অনেকে বলে, ইসলাম নারীদেরকে আবদ্ধ করে রাখে এবং তাদেরকে বিনোদনের কোন সুযোগ দেয় না। হযরত আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূল সা. আমাকে একটি সফরে নিয়ে গেলেন। তিনি সাহাবাদেরকে বললেন, তোমরা আগে যাও। সাহাবাগণ সামনে চলে গেলে রাসূল সা. আমাকে বললেন, আস, আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতা করি। আমি তখন মোটা ছিলাম না ও আমার শরীরে গোশত ছিল না তাই আমি রাসূল সা. কে হারিয়ে দিলাম। তারপর বেশ অনেক দিন পর আবার রাসূল সা. এর সাথে সফরে বের হলে সাহাবাদেরকে বললেন, আগে যাও। তারা অগ্রসর হলে রাসূল সা.আমাকে বললেন, আস আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করি। আমি তখন মোটা হয়ে গিয়েছিলাম তাই রাসূল সা. আমাকে হারিয়ে দিলেন। তারপর রাসূল সা. বললেন, এবার সে বারের বিনিময় (আগের বারের হারের প্রতিশোধ নিলাম)। [আবু দাউদ শরীফ:২৫৭৮]
রাসূল সা. এভাবে পরিকল্পনা করে তার স্ত্রীদের সাথে অনন্দ করেছেন। অতএব ইসলাম নারীকে খেলতে নিষেধ করেনি, দৌড়াতে নিষেধ করেনি, নাচানাচি করতে, আনন্দ-ফুর্তি করতে নিষেধ করেনি; বরং এসবের অনুমতি দিয়েছে তবে সেটা একটি সীমার মধ্যে। আর তা হল, সব আনন্দ-ফুর্তি, নাচানাচি করতে হবে একজন পুরুষ অর্থাৎ স্বামীর সামনে। কোন ভদ্র, সব্য পুরুষ তার স্ত্রী অন্য নারীর সামনে নাচানাচি করবে, দৌড়াদৌড়ি করবে বা লাফালাফি করে খেলাধুলা করবে তা সহ্য করবে না। অবশেষে আমাদেরকে সে সকল তথাকথিত নায়ক, গায়ক, রংবাজ বা নেতাকে আদর্শ মনে না করে আমাদের রাসূল সা. কে উত্তম আদর্শ মনে করতে হবে। আমরা যদি রাসূল সা. কে উত্তম আ্দর্শ মানতে পারতাম তবে আমাদের ঘরে ঘরে যে অশান্তি, পরিবারে পরিবারে যে বিচ্ছেদ, বাজারে বাজারে যে ঠকবাজি, দলে দলে যে মারামারি, রাস্তায় রাস্তায় যে খুন-খারাবী তা সব বন্ধ হয়ে যেত। তবে রাসূল সা. এর সে আদর্শ, সে আচরণ, সে ব্যবহার, সে নম্্রতা, সে সহনশীলতার অনুসরণ করতে না পারলেও কমপক্ষে আমাদেরকে এ কথা বিশ্বাস করতে হবে যে রাসূল সা. এর আদর্শেই আছে সকল সুখ ও সকল শান্তি এবং রাসূল সা. কে মানতে পারলেই আসবে সফলতা। সে বিশ্বাস অন্তরে জন্মাতে পারলে ধীরে ধীরে আল্লাহ তায়ালা আমাদের রাসূল সা. এর আদর্শ কে মানার তাওফিক দান করবেন।

read more